বেঙ্গল টাইগার প্লাস তরমুজ: বারমাসি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদলানোর সেরা জাত

তরমুজ চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন সারা বছরই সুমিষ্ট ফলন পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশের কৃষকদের কাছে অধিক লাভজনক এবং উচ্চফলনশীল জাত হিসেবে বর্তমানে বিপ্লব ঘটিয়েছে বেঙ্গল টাইগার প্লাস তরমুজ। চিয়া তাই সীড কোম্পানি (থাইল্যান্ড) এর সহযোগিতায় এবং জামালপুর সীডস-এর নিবিড় গবেষণায় উদ্ভাবিত এই জাতটি কৃষকদের জন্য এক নতুন আস্থার নাম।

কেন চাষ করবেন বেঙ্গল টাইগার প্লাস তরমুজ?

একজন সফল কৃষক কেন অন্য জাত ছেড়ে বেঙ্গল টাইগার প্লাস তরমুজ বেছে নেবেন, তার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • অতি দ্রুত ফলন: বীজ বপনের মাত্র ৫২-৫৭ দিনের মধ্যে পরিপক্ব ফসল সংগ্রহ করা যায়।
  • আকর্ষণীয় গঠন: প্রতিটি তরমুজের ওজন ৩-৬ কেজি পর্যন্ত হয়। গাঢ় সবুজের ওপর উজ্জ্বল সবুজ ডোরাকাটা এই তরমুজ দেখতে যেমন সুন্দর, ভেতরে তেমনি টকটকে লাল ও সুমিষ্ট।
  • বারমাসি জাত: এটি প্রতিকূল আবহাওয়া সহনশীল। ফলে গ্রীষ্ম বা বর্ষা—বছরের যেকোনো সময় এটি চাষ করা যায়।
  • পরিবহনে সুবিধাজনক: এর চামড়া শক্ত হওয়ায় দূর-দূরান্তে পরিবহনে ফেটে যাওয়ার ভয় নেই, যা বাজারজাতকরণে বাড়তি সুবিধা দেয়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এটি উচ্চ রোগবালাই সহনশীল একটি আধুনিক হাইব্রিড জাত।
A sliced Bengal Tiger Plus watermelon showing deep red flesh and a whole striped watermelon in a green field.

বেঙ্গল টাইগার প্লাস তরমুজ চাষের সঠিক পদ্ধতি

সফল ফলন পেতে সঠিক নিয়ম মেনে চাষাবাদ করা জরুরি। নিচে বিস্তারিত চাষ পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
১. জমি ও মাদা প্রস্তুতি

বেলে দোআঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য আদর্শ। জমি গভীরভাবে চাষ দিয়ে আগাছামুক্ত করে নিতে হবে।

  • দূরত্ব: ৬ ফুট বাই ৬ ফুট দূরত্বে মাদা তৈরি করতে হবে।
  • বেড পদ্ধতি: ৪ হাত প্রস্থের বেড এবং ২ হাত প্রস্থের নালা তৈরি করলে পানি সেচ ও নিষ্কাশন সহজ হয়।
২. বীজ বপন ও চারার হার
  • প্রতি একরে প্রায় ১৫০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।
  • চারা রোপনের পূর্বে দের ফুট ও দের ফুট গভীর গর্ত করে অর্ধেক গবর ও জৈব সার এবং অর্ধেক মাটি দিয়ে ভরাট করে মাদা তৈরি করতে হবে। এতে ফলন বৃদ্ধি পাবে।
৩. সার ব্যবস্থাপনা (প্রতি একর)

উচ্চ ফলনের জন্য সুষম সার প্রয়োগ অপরিহার্য:

  • ইউরিয়া: ৮০ কেজি
  • টিএসপি: ৫০ কেজি
  • এমওপি (পটাশ): ৪০ কেজি
  • এছাড়াও জিপসাম, জিঙ্ক সালফেট এবং বোরন পরিমাণমতো দিতে হবে।

অধিক লাভ নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিচর্যা

কুশি ও ফল ছাঁটাই (Pruning)

একটি গাছে প্রধান লতার সাথে প্রথম দিকের ৩টি কুশি রেখে বাকিগুলো ছোট অবস্থাতেই কেটে দিন। তরমুজের ওজন ২০০-৩০০ গ্রাম হলে বাঁকা বা দুর্বল ফলগুলো ফেলে দিন। এতে বাকি ফলগুলো দ্রুত বড় ও সুষম আকৃতির হয়।

সেচ ও উপরি সার প্রয়োগ

চারা রোপণের ১০-১২ দিন পর পর ইউরিয়া ও পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করুন। মনে রাখবেন, ফুল আসার সময় অতিরিক্ত ইউরিয়া দিলে ফুল ঝরে যেতে পারে। মাটির আর্দ্রতা বুঝে নিয়মিত সেচ দিন, কারণ পানির অভাবে ফলের আকৃতি নষ্ট হতে পারে।

ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ

বেঙ্গল টাইগার প্লাস তরমুজ রোপণের ৫২-৫৭ দিনের মধ্যে সংগ্রহের উপযোগী হয়। যখন তরমুজের বোটা চিকন ও বাদামী বর্ণ ধারণ করবে এবং গায়ের রং কিছুটা হলুদাভ হবে, তখনই এটি বাজারজাত করার সেরা সময়।

উপসংহার: কৃষকের বন্ধু জামালপুর সীডস

মৌসুমি তরমুজের সময় বাজারে অনেক জোগান থাকায় কৃষকরা প্রায়ই ন্যায্য মূল্য পায় না। এই সমস্যার সমাধানে জামালপুর সীডস নিয়ে এসেছে বারমাসি বেঙ্গল টাইগার প্লাস তরমুজ। উন্নত মানের বীজ এবং আধুনিক কৃষি পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকদের স্বাবলম্বী করাই আমাদের লক্ষ্য।

সঠিক বীজ নির্বাচন করুন, সঠিক সময়ে ফসল ঘরে তুলুন।

error: Content is protected !!